প্রাচীন ঢাকা: ১ দিন

Bangladesh

প্রাচীন ঢাকা: ১ দিন

৳ 799 per person

একসময় ঢাকা শহরকে বলা হতো, “বায়ান্ন বাজারের তেপান্ন গলি”। ঢাকা শহরটি মসজিদের শহর নামেও পরিচিত। এখানে বিশ্বের সেরা মসলিন কাপড় একসময় তৈরি হতো। এছাড়া ঢাকাকে মানুষ রিক্সার শহর বলে ডাকে অথবা এ নামেও বলে থাকে।ইতিহাস ,ঐতিহ্য, সংস্কৃতি,কৃষ্টি, বিখ্যাত সব খাবার, দৃষ্টিনন্দন সব ঐতিহাসিক স্থাপনা বা স্থান। কালের সাক্ষী হয়ে ঠায় দাঁড়িয়ে থেকে ইতিহাসের জানান দেয় যুগের পড় যুগ।

একসময় অত্যন্ত সুপরিকল্পিত, সুন্দর ও ছিমছাম একটি নগরী ছিল পুরান ঢাকা। কিন্তু মুঘল শাসকদের পতনের পর থেকে পুরান ঢাকায় বিপর্যয় নেমে আসে বলে ইতিহাস থেকে জানা যায়।

ব্রিটিশ শাসকরা এ শহরের কিছু দেখভাল করলেও বর্তমান সময়ের প্রশাসনযন্ত্রের অবহেলায় পুরান ঢাকা ধীরে ধীরে তার শ্রী, ঐতিহ্য, ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলো হারিয়ে ফেলতে শুরু করেছে। সংরক্ষণের অবহেলায় লালবাগ, সূত্রাপুর, চকবাজার ও কোতোয়ালি থানা এলাকার হারিয়ে যাচ্ছে প্রাচীন সব ঐতিহ্য।

পুরান ঢাকায় প্রাচীন নিদর্শনাদি ও প্রত্নসম্পদের মধ্যে রয়েছে হোসনি দালান, বড় কাটরা, ছোট কাটরা, নিকিসাহেবের বাড়ি, রূপলাল হাউস, চকবাজার শাহি মসজিদ, ঢাকেশ্বরী মন্দির, মীর ইয়াকুব ইমামবাড়ি, করতলব খান মসজিদ ও হাসিনা মঞ্জিলসহ শতাধিক ভবন।

ঢাকার সঠিক নামকরণের ইতিহাস নিয়েও রয়েছে ব্যাপক মতভেদ। কথিত আছে, সেন বংশের রাজা বল্লাল সেন বুড়িগঙ্গা নদীর তীরবর্তী এলাকায় ভ্রমণকালে সন্নিহিত জঙ্গলে হিন্দুদের দেবী দুর্গার একটি বিগ্রহ খুঁজে পান। তার প্রতি শ্রদ্ধাস্বরূপ রাজা ওই এলাকায় একটি মন্দির নির্মাণ করেন। যার নাম রাখা হয় ঢাকেশ্বরী মন্দির। আর অনেকের মতে, সেখান থেকেই কালক্রমে স্থানটির নাম ঢাকা হিসেবে গড়ে ওঠে। উল্লেখ্য, সপ্তদশ শতাব্দীতে মোগল শাসকদের আমলে এই শহর পরিচিত ছিল জাহাঙ্গীরনগর নামে। সে যুগে ঢাকা ছিল প্রাদেশিক রাজধানী এবং বিশ্বব্যাপী মসলিন বাণিজ্যের একটি কেন্দ্র। ঢাকা শহর মোট চারবার রাজধানী হওয়ার মর্যাদা লাভ করে। প্রথমে সম্রাট জাহাঙ্গীরের সুবাদার ইসলাম খান ১৬১০ সালে মতান্তরে ১৬০৮ সালে ঢাকায় মোগল রাজধানী স্থাপন করেন। এরপর ১৭১৭ সালে মুর্শিদকুলি খান তা মুর্শিদাবাদে স্থানান্তর করেন। ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ হলে ঢাকা নবগঠিত পূর্ব বাংলা ও আসাম প্রদেশের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। এবার ঢাকায় রাজধানী স্থায়ী হয় ছয় বছর। ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদের মাধ্যমে রাজধানী কলকাতা চলে গেলে ঢাকা জেলায় পরিণত হয়। এরপর ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির পর ঢাকা পূর্ব পাকিস্তান প্রদেশের রাজধানী হয়। এবং সবশেষে ১৯৭১ সালে ঢাকা স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের রাজধানীতে উপনীত হয়। তবে আধুনিক ঢাকা শহরের বিকাশ ঘটে ঊনবিংশ শতাব্দীতেই। ১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর বঙ্গভঙ্গের মাধ্যমে পূর্ব বাংলা ও আসাম প্রদেশের রাজধানী হিসেবে যখন ঢাকার নাম ঘোষণা করা হয় তখন ঢাকা শুধুই একটি জেলা ও বিভাগীয় শহর। ১৯০১ সালে এই শহরের আয়তন ছিল ৬ বর্গমাইল। লোকসংখ্যা ৮৯৭৩৩। তখনো ঢাকার পরিচিতি ছিল কেবল নবাব পরিবারের বাসস্থান হিসেবে।

ঢাকায় রাজধানী স্থাপনের পরপরই ঢাকার নওয়াব আবদুল গনির বাগানবাড়ি দিলকুশ গার্ডেনের একটি অংশ সরকার কিনে নেয় এবং সেখানে লে. গভর্নরের অবস্থানের জন্য একটি বাড়ি নির্মাণ করা হয়। ঢাকায় এলে তিন লে. গভর্নরই ওই বাড়িতে অবস্থান করতেন। ভবনটির নাম দেয়া হয়েছিল গভর্নরস হাউস। ১৯৭১ পর্যন্ত ওই নাম চালু ছিল। ১৯৬১ সালে ঝড়ে ভবনটি তিগ্রস্ত হলে তা আবার ১৯৬৪ সালে নতুনভাবে নির্মিত হয়। দেশ স্বাধীন হওয়ার আগ পর্যন্ত পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর আবদুল মোনেম খান ওই ভবনে বাস করতেন। ১৯৭২ সালে ভবনটিকে রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবনে পরিণত করা হয় এবং নামকরণ করা হয় বঙ্গভবন।
ঢাকাকে রাজধানী শহর হিসেবে নির্মাণের জন্য তাৎণিকভাবে কিছু সমস্যাও দেখা দেয়। যেমনÑ নতুন শহর নির্মাণের জন্য স্থান নির্বাচন ও ভূমি অধিগ্রহণ, নির্মাণকাজের জন্য ঢাকার পিডব্লিউডির দ জনবলের অভাব ও ঢাকা পৌরসভা হিন্দু কমিশনারদের অসহযোগিতা ইত্যাদি। পুরান ঢাকার উত্তর-পশ্চিমে রমনা এলাকাটি ছিল নতুন শহর নির্মাণের উপযোগী। কিন্তু রমনার কেন্দ্রবিন্দু দিয়ে চালু রেললাইন ও সাধারণ মানুষের বসতি একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। এই সমস্যা সমাধানের উদ্দেশ্যে রেললাইন অন্য দিকে সরিয়ে নিয়ে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের উচ্ছেদ করে মূল রমনা এলাকার ভূমি অধিগ্রহণ করা হয়। পরবর্তীকালে উচ্ছেদকৃতদের তিপূরণ দেয়া হলেও তাদের পুনর্বাসনের কোনো ব্যবস্থাই করা হয়নি। ১৯০৫ সালে নতুন শহর অর্থাৎ রমনা এলাকায় বৈদ্যুতিক বাতির ব্যবস্থা করা হয়। বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাওয়ার স্টেশনটিও নির্মাণ করা হয়েছিল রমনা সিটি স্টেশনের নিকটবর্তী হাতিরপুলে। শিা খাতেও সেই সময়ে ব্যাপক উন্নতি হয়। ১৯০৬ সালে ঢাকা মুসলিম হাইস্কুল, ১৯১০ সালে টিচার্স ট্রেনিং কলেজ এবং জগন্নাথ কলেজে নতুন ভবন নির্মাণ করা হয়। নতুন শহর রমনার সৌন্দর্যবর্ধনেও নেয়া হয় যুগান্তকারী পদপে। ১৯০৮ সালে লন্ডনের কিউই গার্ডেনের কর্মী প্রাউডলককে ঢাকায় আনা হয়। এবং তার তত্ত্বাবধানেই তৈরি করা হয় একটি মনোরম পার্ক, যা বর্তমানে রমনা পার্ক নামে পরিচিত। এরপর ক্রমে ক্রমে উন্নতির ধারা অব্যাহত রেখে এখনো চলছে শহরটির আধুনিকায়নের কাজ। এক কথায় গত চার শ’ বছরে নানা উত্থান-পতনের মাধ্যমেই গড়ে উঠেছে আমাদের প্রাণের শহর ঢাকা মহানগর।

  • Destination
  • Departure
    Dhaka, Bangladesh
0.0
Accomodation0%
Destination0%
Meals0%
Overall0%
Satisfaction0%
Transport0%
Value For Money0%

POST A REVIEW

প্যাকেজে যা যা অন্তর্ভুক্ত

  • নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থা
  • এসি মাইক্রোবাস
  • সকালের নাশতা
  • ঢাকেশ্বরী মন্দির ঘুরে দেখা
  • তারপর লালবাগ দুর্গ বা কেল্লা
  • বড় কাটরা ছোট কাটরা
  • আর্মেনিয়া গির্জা
  • দুপুরের খাবার পুরাণ ঢাকার বিখ্যাত কোন রেস্তোরায়
  • আহসান মঞ্জিল
  • বুড়িগঙ্গা নদী
  • বিকালের স্ন্যাক্স
  • সন্ধায় নিজেদের গন্তব্যের উদ্দেশে ফিরে যাওয়া

প্রযোজ্য বিষয়সমূহ

  • প্রথমেই একটি ভ্রমণ পিপাসু মন থাকতে হবে।
  • ভ্রমণকালীন যে কোন সমস্যা নিজেরা আলোচনা করে সমাধান করতে হবে।
  • ভ্রমণ সুন্দর মত পরিচালনা করার জন্য সবাই আমাদেরকে সর্বাত্মক সহায়তা করতে হবে।
  • অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে যে কোন সময় সিদ্ধান্ত বদলাতে পারে ।
  • যে কোন শর্তাবলী প্রযোজ্য ।

যা যা নিয়ে আসবেন

রেইনকোট/ছাতা, হাঁটার স্লিপার জুতা, সূর্য থেকে সুরক্ষার জন্য হ্যাট / ক্যাপ, সান -বাম লোশন, রোদ চশমা, ক্যামেরা , জরুরী ঔষধ,পতঙ্গনাশক ক্রীম, পানির বোতল, গামছা ইত্যাদি।

Prices

  • খরচ: (০৬-০৮)জন – ৭৯৯ টাকা জনপ্রতি।

নিবন্ধন

শুক্রবার ছাড়া যে কোনো দিন সরাসরি অফিসে এসে বা বিকাশে মাধ্যমে পেমেন্ট করে নিবন্ধন করতে পারবেন। বিঃদ্রঃ- যে কোন শর্ত প্রযোজ্য

সতর্কতা

খাবারের অবশিষ্ট বা উচ্ছিষ্ট অংশ, চিপসের প্যাকেট, সিগারেটের ফিল্টার, পানির বোতলসহ অন্যান্য আবর্জনা পার্কের ভিতরে ট্যুর বা ভ্রমণ স্থানে অথবা যেখানে সেখানে না ফেলে নিদিষ্ট স্থানে বা ব্যাকপ্যাকে করে সাথে নিয়ে আসুন। মনে রাখবেন, প্রকৃতির এই সৌন্দর্যকে টিকিয়ে রাখার দায়িত্ব আমাদেরই।